The Call of ’21 (একুশের ডাক) – A Novel Campaign and a Nucleus of the New

We publish a document ‘Demands of the People’ adopted by a novel campaign Ekusher Dak in West Bengal that has the potential to emerge as the nucleus of a new Left formation in the state. The draft document in Bangla is appended at the end of this post. Tomorrow, 30 June, Ekusher Dak or the Call of 21 will be organizing a programme, recalling the great Santhal Hool or the revolt of 30 June 1855.

The journey of our campaign Ekusher Daak (The Call of 21) started during the early days to the build-up of the Bengal Election 2021. It was a two pronged approach – to build awareness among voters about the dangerous politics of the BJP-RSS; and to bring upfront the demands of people from across a diverse range of backgrounds and professions. On February 8, 2021 through a People’s Convention the Charter of Demands was consolidated and accepted; and on February 21, 2021 at a People’s Conference this was announced. The awareness campaign led to the joining of forces with the ‘No Vote to BJP campaign initiated by the Bengal Front Against Fascist RSS/BJP. Bengal’s public has rejected BJP; people have stood forth valiantly against their aggression. But BJP-RSS have spread their poisonous ideology deep inside the interiors of Bengal, and have dived in quickly to destroy the people’s verdict.In this situation, to continue to build long-term resistance, we are consolidating the campaigns of Ekusher Daak.

June 30 is the historic Hul Dibosh – the Day of Hul. The Santhal Hul is our vital inspiration for the freedom struggles of oppressed and marginalised people. Also, today there are several attacks and assaults by the State on the Adivasis and their way of life.Since at the present moment due to the pandemic we are unable to meet in a closed environment, we have organised an online People’s Convention. Speakers like the eminent historian Tanika Sarkar, Professor Maroona Murmu, Author Samim Ahmed and Social Worker Boro Baski will speak about the rights and struggles of the Adivasis. Dipankar Bhattacharya, the General Secretary of CPI (ML) Liberation, and Journalist Anirban Chattopadhyay will share their views on the battles of histories and cultures. Dilip Ghosh, retired IAS will speak about the realities of the Panchyat system and its workings, while Achin Chakraborty, the Director of the Institute of Development will share concerns on public health. Jaya Mitra will speak about the movements on protecting our environment, and finally, Samirul Islam from Bangla Sanskriti Mancha and Nilasis Bose from AISA will share their experiences of standing with the people whose lives have been devastated by COVID19 and the Yash cyclone. Bipul Chakroborty and Anushree Chakroborty will present music at the convention, and Social Researcher Kumar Rana will moderate the entire convention proceedings which will be in Bangla.

The People’s Convention will start at 5 pm on June 30, 2021. Hundreds of people from across various districts of Bengal and from diverse social backgrounds will participate. We appeal to you to join us in this convention on Zoom, and help push our campaign forward. The full programme can also be witnessed on the Facebook and Youtube pages of Ekusher Daak Manusher Dabi একুশের ডাক মানুষের দাবি (The Call of 21 People’s Demand).

জনগণের দাবিসনদ, ২০২১ পশ্চিমবঙ্গ

(খসড়া)

বিধানসভা নির্বাচন চলে এসেছে। কোভিড ভ্যাক্সিনের কথাও শোনা যাচ্ছে। কিন্তু গোটা দেশ জুড়ে এবং আমাদের এ রাজ্যেও এখনও কোভিড অতিমারি আমাদের তাড়া করে চলেছে। এমন সময়ে এই নির্বাচনে আমাদের অ্যাজেন্ডা কী হবে? অতিমারি ও লকডাউনের তিক্ত অভিজ্ঞতা আমাদের কী বার্তা দিচ্ছে?

এই প্রশ্ন নিয়ে আমরা রাজ্য জুড়ে ব্যাপক আলাপ আলোচনা চালিয়েছি, গ্রামে ও শহরে, সমাজের সর্বস্তরের, বিভিন্ন পৃষ্ঠভূমি থেকে আসা বিভিন্ন প্রজন্মের মানুষের সঙ্গে। তাঁদের অভাব-অভিযোগ, আশা ও আকাঙ্ক্ষা, আন্দোলনের মধ্য থেকে আমরা পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে গণতন্ত্র ও জনকল্যাণের সূত্র খুঁজেছি। সেখান থেকেই বেরিয়ে এসেছে জনগণের এই দাবিসনদ। সুস্থ ভাবে সকলে মিলে বেঁচে থাকার পরিবেশ চাই। সুযোগ চাই। অধিকার চাই।

এই দাবিসনদের ভেতরে ঢোকার আগে কয়েকটা জরুরী শিক্ষা উল্লেখ করা প্রয়োজন। অতিমারি আমাদের শিক্ষা দিয়েছে স্বাস্থ্য নিয়ে যেন ব্যবসা না চলে। বড়বড় প্রাইভেট হাসপাতালের ঝাঁ চকচকে ইমারত আর বিভিন্ন বীমা প্রকল্পের মনভোলানো প্রতিশ্রুতি নয়, প্রয়োজনের সময় হাতের কাছে ডাক্তার, ওষুধ, চিকিৎসার গ্যারান্টি এটাই হলো আসল কথা। স্বাস্থ্যের এই মৌলিক ও সার্বিক অধিকারের জন্য চাই শক্তিশালী সরকারী স্বাস্থ্য ব্যবস্থা। মুনাফা লোটার ব্যবসা নয়, রুগীর সেবা ও রোগের চিকিৎসা করার ব্যবস্থা।

অতিমারি মোকাবিলার নামে সরকার লকডাউন ঘোষণা করেছে। ঘরে থাকতে বলেছে। ট্রেন বাস বন্ধ হয়ে গিয়েছে। ঘরের বাইরে আটকে পড়া লক্ষ লক্ষ মানুষের ঘরে ফেরার ব্যবস্থা হয়নি। সরকার বলেছে ঘরে বসে কাজ কর। কিন্তু কাজ কোথায়? আয় কোথায়? গোটা দেশে কোটি কোটি মানুষ কাজ হারিয়েছে। আয় শুকিয়ে এসেছে, বন্ধ হয়ে গেছে। এই খেটে খাওয়া মানুষের নিরাপত্তা, অধিকার, কাজ ও আয়ের কথা বাদ দিয়ে উন্নয়ন শব্দের কোনো মানে নেই। ভারত মাতার নামে জয়ধ্বনি বা জয় বাংলা স্লোগানে নয়, উন্নয়ন আছে মানুষের কর্মসংস্থান ও সুস্থ ভাবে বেঁচে থাকার মতো স্থায়ী আয়ের গ্যারান্টিতে।

উন্নয়ন আছে শিক্ষায়। সকলের জন্য শিক্ষার অধিকারে। অথচ এই লকডাউনে শিক্ষা অনলাইন হয়ে গেছে। লকডাউনের মাঝে দুম করে মোদী সরকার নিয়ে এল নতুন শিক্ষা নীতি। সরকারী স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় কমে যাবে, তার জায়গায় আসবে প্রাইভেট স্কুল, কর্পোরেট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয়। শিক্ষাব্যবস্থা থেকে সংরক্ষণ যদি উঠে যায়, শিক্ষার দায়িত্ব সরকার যদি ছেড়ে দেয় তাহলে গরীব মানুষের, বঞ্চিত সমাজের শিক্ষার কী হবে? আর শিক্ষা যদি বিত্তবানের বিশেষাধিকারে পরিণত হয় তবে গরীব, বঞ্চিত মানুষ কি চিরকাল পিছিয়েই থাকবে? সকলের জন্য স্বাস্থ্য, সকলের জন্য শিক্ষা, সকলের জন্য কাজ – এর থেকে প্রয়োজনীয় দাবি আজ আর কী হতে পারে?

লকডাউনের মাঝে সরকার জারি করেছে নতুন শ্রম কোড, নতুন কৃষি আইন। এই নতুন আইনের মূল কথা হলো আমাদের শিল্প-পরিবহণ-কৃষি, পুরো অর্থব্যবস্থাটাই চলে যাবে আদানি-আম্বানিদের দখলে, কোম্পানি রাজের কবলে। কৃষিজাত উৎপাদনের দাম ঠিক করা থেকে শুরু করে তা যথেচ্ছ জমিয়ে রাখার অধিকার, সবই যখন সরকারের দায়িত্ব না হয়ে কোম্পানির অধিকারে পরিণত হয়, তাহলে বুঝতে অসুবিধে নেই কৃষক হয়ে যাবে কোম্পানির ভাড়াটে আর রেশন ব্যবস্থা লাটে উঠে যাবে। কোম্পানির স্বার্থ রক্ষা করতে এমনকি আমাদের পরিবেশপ্রকৃতি সুরক্ষার প্রশ্নও জলাঞ্জলি দিচ্ছে সরকার; ভাঙ্গন, খরা, বন্যা ও দূষণে বারবার বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে জনজীবন, কিন্তু পরিবেশগত প্রভাব খতিয়ে দেখার আইনটাই অকেজো করে দিতে নতুন সংশোধন এনেছে সরকার। গোটা দেশ জুড়ে আজ তাই কোম্পানি রাজের বিরুদ্ধে, বেসরকারীকরণের আক্রমণের বিরুদ্ধে আওয়াজ উঠেছে। ছাত্র যুব, শ্রমিক, কৃষক, নারী পুরুষ, একযোগে পথে নেমেছে। এ যেন দেশ জুড়ে দ্বিতীয় স্বাধীনতার লড়াই। স্বাধীনতা আন্দোলনে নেতাজী সুভাষচন্দ্র ডাক দিয়েছিলেন ‘দিল্লী চলো’। আজ সেই দিল্লীর সীমান্তে ঘাঁটি গেড়েছে দেশের কৃষক। স্বাধীনতা আন্দোলন ও কৃষক জাগরণের ঘাঁটি পশ্চিমবঙ্গ অবশ্যই এই দ্বিতীয় স্বাধীনতার লড়াইয়েও পিছিয়ে থাকবে না।

আমাদের স্বাধীনতা এ বছর পঁচাত্তরে পা দেবে। সংবিধানের একাত্তর বছর পুরো হয়ে গেল। স্বাধীনতা আন্দোলনে আমরা ইংরেজ শাসন থেকে মুক্তি পেয়েছিলাম, কিন্তু সাম্প্রদায়িকতার বেড়াজাল ও বিষবাষ্প থেকে বেরিয়ে আসতে পারিনি। দাঙ্গা ও দেশভাগ সেদিন স্বপ্নের স্বাধীনতাকে কেমন বিষণ্ণ করে তুলেছিল। সেই তিক্তস্মৃতি পেছনে ফেলে আমরা এগোনোর চেষ্টা করেছি। স্বাধীনতা আন্দোলন আমাদের নানা ভাষা, নানা মত, নানা পরিধানের জনগণের মধ্যে যে মহান মিলন রচনা করেছিল, সংবিধান তাকে দিয়েছিল এক শক্তিশালী ভিত্তি ও গৌরবময় মর্যাদা। সকলের জন্য সামাজিক, আর্থিক ও রাজনৈতিক ন্যায়; চিন্তা, মতপ্রকাশ ও ধর্ম অবলম্বনের স্বাধীনতা; জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সুযোগ ও মর্যাদার সমতা এবং পারস্পরিক সম্প্রীতির ভিত্তিতে এক ধর্মনিরপেক্ষ গণতন্ত্রের আদর্শ নিয়ে শুরু হয়েছিল আমাদের স্বাধীন দেশের যাত্রা।

আজ এই সংবিধান পাল্টে দেবার চক্রান্ত চলছে। আসামে দেখছি প্রায় কুড়ি লক্ষ মানুষের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা। প্রতিবেশী দেশ থেকে আসা সংখ্যালঘু মানুষকে নাগরিকত্ব প্রদানের কথা বলে দেশের ভেতরে মানুষকে নতুন করে উদ্বাস্তু বানানোর ও ধর্মের ভিত্তিতে ভেদাভেদ রচনার ছক তৈরী হচ্ছে। তার আইনী নাম এনআরসি-এনপিআর-সিএএ। লাভ জিহাদের জুজু দেখিয়ে ধর্ম, ভালোবাসা ও বিয়ের মতো ব্যক্তিগত বিষয়ে ব্যক্তিস্বাধীনতার উপর নিষেধাজ্ঞা জারী করা হচ্ছে। ইতিহাসের চাকাকে পেছনে ঘুরিয়ে দিয়ে আমাদের আবার পেছনে ঠেলে দেওয়া ও নীচে নামানোর এই চক্রান্তকে পরাজিত করতে হবে।

প্রদেশ ও দেশের মাটিতে সুস্থ সমাজে, সুস্থ পরিবেশে, সুস্থ ও স্বাধীন ভাবে সবাই মিলে বেঁচে থাকার অধিকার ও অঙ্গীকারকে ভিত্তি করেই জনগণের এই দাবিসনদ।

স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মসংস্থানে দায়বদ্ধ থাকবে সরকার

সারা দুনিয়ার মানুষের প্রথম দাবি এখন এটাই। সরকারকে তার মূল ভূমিকায় ফিরতে হবে, গুটিকয় পুঁজিপতির স্বার্থে নয়, জনগণের স্বার্থে কাজ করতে হবে।

সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা

স্বাস্থ্যসেবা প্রত্যেক ব্যক্তির অধিকার এবং সরকার সেই অধিকার সুনিশ্চিত করতে দায়বদ্ধ।

  • গ্রামস্তর পর্যন্ত সরকারি স্বাস্থ্যসেবার ব্যাপক বিস্তার ঘটাও। রাজ্যে প্রতিটি ব্লকে আধুনিক ডায়াগনস্টিক ফেসিলিটি সহ পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল ও জেলা স্তরে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল গড়ে তোল। গ্রামে গ্রামে একজন ডাক্তার ও একজন নার্সকে নিয়ে বুথ ভিত্তিক ক্লিনিক/ডিসপেন্সারি চালু করতে হবে। সমস্ত স্তরের হাসপাতালে প্যালিয়েটিভ কেয়ার ইউনিট চালু করতে হবে এবং নিম্ন আয়ের সমস্ত প্রবীণ নাগরিকদের জন্য রাজ্যের প্রতিটি ব্লকে বৃদ্ধাশ্রম ও শুশ্রূষাকেন্দ্র গড়ে তুলতে হবে। চিকিৎসায় কোনও রকমের খরচ রোগির কাছ থেকে নেওয়া চলবে না এবং আধার বা অন্য কোনও রকম কার্ডকে চিকিৎসার পূর্বশর্ত করা চলবে না।
  • মানসিক স্বাস্হ্যসেবাকে জনস্বাস্হ্য ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত কর, ব্যয় বরাদ্দ বাড়িয়ে মানসিক স্বাস্হ্যসেবাকে সুলভ ও সুগম কর।
  • সমস্ত গ্রামে বিশুদ্ধ পানীয় জল নিত্যকর্মের পানি সরবরাহ করতে হবে। দ্রুত বৃদ্ধি হওয়া শহর ও আধা-শহরগুলির নিকাশি ব্যবস্থা ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ গড়ে তুলতে উদ্যোগ নিতে হবে। বস্তিগুলিতে আবাসন, পয়ঃপ্রণালী, স্বাস্থ্যকর পরিবেশ, জল সরবরাহ, প্রাইমারি স্কুল, বুথভিত্তিক একক ডাক্তার ডিস্পেন্সারি গড়ে তুলতে হবে।

সকলের জন্য শিক্ষা

ভারতে শিক্ষার অধিকারে বৈষম্য সবচেয়ে আদি সামাজিক বৈষম্য। আমাদের সংবিধানে এই বৈষম্য দূর করে শিক্ষাকে সার্বজনীন অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা আছে। উন্নত ও সম গুণমান সম্পন্ন শিক্ষার সুযোগ সকলের কাছে সমানভাবে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব সরকারের। চিকিৎসা, আইন, প্রযুক্তিবিদ্যা সব ধরণের শিক্ষাতেই সরকারি প্রতিষ্ঠানের চেয়ে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আধিপত্য বেশি দেখা যাচ্ছে। এই ভাবে এই সব বিষয়ে শিক্ষা বড়লোকদের কুক্ষিগত হচ্ছে৷ এই ব্যবস্থা বন্ধ হোক।

  • কেন্দ্রের ‘নয়া শিক্ষা নীতি ২০২০’ বাতিল করা দরকার। রাজ্য বিধানসভায় এই বৈষম্যমূলক শিক্ষা নীতির বিরুদ্ধে প্রস্তাবনা পাস করাতে হবে। বেসরকারীকরণ ও পণ্যায়ন রোধ করতে ‘কেজি থেকে পিজি’ অবৈতনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ব্যাপক বিস্তার ঘটাতে হবে সরকারকে। বিদ্যমান বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির ফি স্ট্রাকচারে কঠোর নিয়ন্ত্রণ কায়েম করতে হবে। সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সংরক্ষণ বিধি যথাযথভাবে লাগু করতে হবে। শিক্ষাকে কেন্দ্রের একচেটিয়া অধিকারে পর্যবসিত করতে দেওয়া যাবে না। রাজ্য ও এলাকা ভিত্তিক শিক্ষার নিজস্ব চাহিদার দিকগুলির দিকে গুরুত্ব আরোপ করতে হবে। NEET নামক ডাক্তারি শিক্ষার প্রবেশিকার দ্বারা প্রাদেশিক ছাত্রছাত্রীরা ভাষাগত কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নিজ রাজ্যে চিকিৎসাশাস্ত্র পাঠেরও সুযোগ থাকছে না। এই প্রবেশিকা বাতিল হোক। স্কুল স্তরে মাতৃভাষার মাধ্যমে শিক্ষার অধিকারকে সর্বত্র সুনিশ্চিত করার উদ্যোগ নিতে হবে সরকারকে।
  • দুর্নীতিমুক্ত ও স্বচ্ছ পদ্ধতিতে স্কুল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে প্রতি বছর বিদ্যালয়গুলিতে উপযুক্ত সংখ্যক শিক্ষক নিয়োগ করতে হবে। গ্রামীণ স্কুলগুলির শিক্ষক শিক্ষিকাদের স্কুল এলাকায় থাকাকে উৎসাহিত করতে সরকারি কোয়ার্টারের ব্যবস্থা করতে হবে। পাঠ্যক্রমে সংবিধানের প্রস্তাবনা অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এবং বিজ্ঞান মনস্কতা, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য সম্পর্কে ধারণা, লিঙ্গ ও জাতের বিনাশ সম্পর্কে সংবেদনশীলতা, বিভিন্ন আইনী অধিকার ও পরিবেশ সচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দিতে হবে।
  • পশ্চিমবঙ্গের শিশু শ্রমিক ও পথবাসী শিশুদের সার্বিক সমীক্ষা করে তাদের দ্রুত পুনর্বাসনের লক্ষ্যে পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে রাজ্য সরকারকে। সরকারি অনাথ আশ্রমের পরিকাঠামো ব্যাপক বাড়াতে হবে।

সব হাতে কাজ

কর্পোরেটমুখী উন্নয়ন কর্মনাশা হিসাবে প্রমাণিত হয়েছে। বেকারত্ব নিদারুণ পর্বে পৌঁছেছে। সমস্ত প্রাকৃতিক সম্পদ ও মানবসম্পদকে কর্মসংস্থানমুখী উন্নয়নে ব্যবহার করতে বহুবিধ রাষ্ট্রীয় নিগমের পুনর্বিকাশ প্রয়োজন। রাষ্ট্রায়ত্ত উৎপাদন ক্ষেত্র ও সরকারি পরিষেবার ব্যাপক বিস্তারই বেকারত্ব দূর করার প্রথম ধাপ।

  • অতিমারির সংকটে পুরুষদের তুলনায় দ্বিগুণ বেশি কর্মহীন ও বিপন্ন হয়েছেন মহিলারা। তাঁদের জন্য সরকারকে বিশেষ ব্যবস্থা নিতে হবে।
  • রুগ্ন রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার পুনরুজ্জীবন ও বন্ধ কারখানা খোলার জন্য সর্বাত্মক উদ্যোগ নিতে রাজ্য সরকারকে ‘পুনর্বিনিয়োগ মন্ত্রক’ গঠন করতে হবে। সরকারি সংস্থা বেসরকারি করা চলবে না। সরকারি সংস্থার কাজে শ্রমনিবিড় শ্রমিক-নির্ভর কর্মধারা চালু করতে হবে। পরিবহণ ব্যবস্থাকে উত্তরোত্তর সরকারি আওতায় আনতে হবে এবং বিস্তার ঘটাতে হবে।
  • সরকারি, আধা সরকারি বা অনুদান প্রাপ্ত সমস্ত সংস্থার বিভিন্ন স্তরের পদসংখ্যা, নিয়োজিত পদ ও শূন্যপদ সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য সরকারকে অবিলম্বে প্রকাশ করতে হবে ও শূন্যপদ পূরণ করতে হবে।
  • বন্ধ কারখানা/সংস্থার জমি বিক্রি করা ও শিল্পবহির্ভূত কাজে ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করতে হবে, বন্ধ কারখানার শ্রমিক বস্তিগুলি থেকে শ্রমিকদের সরিয়ে দেওয়া চলবে না। বন্ধ কারখানার শ্রমিকদের সমবায় গড়ে বন্ধ কারখানার জমিকে নতুনভাবে কাজে লাগাতে উদ্যোগ নিক সরকার।
  • ক্ষুদ্র উৎপাদক/কারিগর তথা ছোট বিক্রেতাদের গুরুত্ব দাও। শহর ও গঞ্জের রাস্তার ধারে মাল নিয়ে বসার আইনি স্বীকৃতি ও ট্রেনভাড়ায় ছাড় দাও। সাগরের ক্ষুদ্র মৎস্যজীবীদের অগ্রাধিকার দাও। সুন্দরবনের নদী-খাঁড়ি সহ সমস্ত নদী হ্রদ খাল বিল জলাভূমিতে মৎস্যজীবীদের সুস্থায়িভাবে মাছ ধরা ও উৎপাদন করার অধিকার দাও। মৎস্যজীবীদের অর্ধেক অংশ মহিলা, বাজেটে তাঁদের জন্য আলাদা বরাদ্দ রাখতে হবে। হ্যাণ্ডলুম তাঁতি সহ বাংলার প্রথাগত বহুবিধ কারিগর এবং ক্ষুদ্র কৃষকদের মাঝে নতুন রূপে সমবায় আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে সরকারকে।
  • মনরেগা প্রকল্পে বছরে অন্তত ২০০ দিন কাজ ও দৈনিক ন্যুনতম ৭০০ টাকা মজুরি নিশ্চিত করতে হবে সরকারকে। পরিবার পিছু নয়, প্রত্যেক শ্রমিককে মাথাপিছু জব কার্ড দিতে হবে। শহরেও কর্মনিশ্চয়তা আইন চালু করতে হবে।
  • বাংলা থেকে অন্য রাজ্যে বা বিদেশে কাজ করতে যাওয়া পরিযায়ী শ্রমিকদের নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও মর্যাদা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্থায়ি হেল্প ডেস্ক চালু করতে হবে। সমস্ত পরিযায়ি শ্রমিককে কেন্দ্রীয় আইনের বিধিবদ্ধ সংস্থানে নাম নথিভুক্ত কর। অন্য রাজ্য থেকে পশ্চিমবাংলায় কাজে আসা শ্রমিকদের পরিচয়পত্র দেওয়ার ব্যবস্থাও রাজ্য সরকারকে করতে হবে এবং তাঁদেরও সামাজিক সুরক্ষার আওতায় নিয়ে আসতে হবে।

শ্রমিকের অধিকার

  • কেন্দ্রের আনা নয়া শ্রমিকস্বার্থ-বিরোধী শ্রমকোড বাতিল করতে হবে। যে কোনও ধরণের কাজে দৈনিক ৭০০ টাকা (মাসে ২১,০০০ টাকা) ন্যুনতম মজুরি নিশ্চিত করতে হবে। আমাজন, যোম্যাটো, ফ্লিপকার্ট, ওলা, উবের ইত্যাদি কোম্পানির গিগ-ওয়ার্কারদের অধিকার ও সুরক্ষা সুনিশ্চিত করতে যথাযথ আইন প্রণয়ন করতে হবে।
  • সংগঠিত ক্ষেত্রের ঠিকা শ্রমিকদের স্থায়ি করতে হবে। রাজ্যে রাষ্ট্রীয় পরিবহনে ফ্রানচাইজি ইত্যাদির বিভিন্ন শ্রমিক, সমস্ত কর্পোরেশন ও মিউনিসিপালিটির সাফাই কর্মচারী এবং আশা ও রন্ধনকর্মী সহ সমস্ত সরকারি স্কিম কর্মীদের স্থায়িকরণ ও ন্যুনতম মজুরি নিশ্চিত করতে হবে, গৃহ পরিচারিকাদের শ্রমিকের স্বীকৃতি দিয়ে বেতন কাঠামো নির্ধারণ ও সরকারি কল্যাণ প্রকল্প চালু করতে হবে। মিড-ডে-মিল প্রকল্প এনজিও-র হাতে তুলে দেওয়া চলবে না। বিপজ্জনক কাজে যুক্ত কর্মচারীদের সমস্ত রকম সুরক্ষা সামগ্রী সরবরাহ করতে হবে এবং তাঁদের স্বাস্থ্যসেবার সব দায় নিয়োগকারি সংস্থাকে (সরকারি বা বেসরকারি) নিতে হবে। বিশ্ব শ্রম সংস্থা প্রণীত ‘মৎস্যক্ষেত্রে কাজের সনদ ১৮৮’-কে মান্যতা দিতে হবে যাতে যন্ত্রচালিত বৃহৎ নৌকায় কর্মরত মৎস্যশিকারি শ্রমিকদের জীবন-জীবিকার অধিকার স্বীকৃতি পায়। বিভিন্ন এনজিওতে কর্মরতদের আইনানুগ নিয়োগপত্র, ন্যুনতম মজুরি ও ইউনিয়নের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
  • ‘ইন্ডিয়ান  নার্সিং কাউন্সিল’ ভেঙ্গে দিয়ে এনএনএমসি বিল আনা চলবে না, নার্স ও মিডওয়াইফদের পেশার বিশিষ্টতাকে গুরুত্ব দিয়ে তাঁদের কাজের পরিবেশকে উন্নত করতে হবে ও বেতন কাঠামো অন্যান্য সরকারি কর্মচারীদের বেতন কাঠামোর সাথে সাযুজ্যপূর্ণ করতে হবে। সমস্ত বেসরকারী হাসপাতাল/নার্সিং হোমের নার্স ও এটেন্ডেন্ট সহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যকর্মীদের ন্যুনতম বেতন নিশ্চিত করতে সরকারকে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
  • মহিলাদের রাত্রিকালীন কাজ বাধ্যতামূলক করা চলবে না। মহিলাদের রাতের শিফটে কাজে যুক্ত করার আগে সুরক্ষা, ছুটি, কাজের সময় এবং অন্যান্য শর্ত নির্ধারণ করতে হবে রাজ্য সরকারকে।
  • চটকল ও চা বাগানের শ্রমিকদের দাবি সনদের দ্রুত মিমাংসা করতে হবে। বন্ধ কারখানার শ্রমিকদের ন্যূনতম ৫০০০ টাকা ভাতা সরবরাহ করতে হবে এবং যতদিন না তাঁরা তাঁদের বকেয়া মজুরি পাচ্ছেন ততদিন সব ধরনের শ্রমিককে বন্ধ-ভাতা দিতে হবে। রাজ্য সরকারকে এসএসওয়াই প্রকল্পের সুযোগসুবিধা ফিরিয়ে দিতে হবে, নির্মান শ্রমিক কল্যাণ তহবিল ফিরিয়ে দিতে হবে, লকডাউনে কাজ হারানো শ্রমিকদের অর্থ সাহায্য করতে হবে।

চাষ বাঁচাও, গ্রাম বাঁচাও

  • কেন্দ্র সরকার যে তিনটি নয়া কৃষি আইন এনেছে তা বাতিল করা সর্বাগ্রে দরকার। কেন্দ্রীয় এই আইনগুলির বিরুদ্ধে রাজ্য বিধানসভায় প্রস্তাব গ্রহণ করতে হবে। সমস্ত কৃষক সংগঠনগুলিকে আলোচনায় সামিল করে এমন কৃষি আইন প্রণয়ন কর যা—সমস্ত ফসলের ন্যুনতম সহায়ক মূল্য ও কৃষি শ্রমিকের ন্যুনতম মজুরি নিশ্চিত করবে, কৃষিতে মহিলাদের শ্রমের ও মালিকানার স্বীকৃতি সুরক্ষিত করবে এবং কোনও কোম্পানি/সংস্থা কৃষকের স্বার্থহানী ও খাদ্যসুরক্ষা বিঘ্নিত করলে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার বিধান দেবে। ২০০৩ সালের ম্যাকিন্সে সুপারিশের ভিত্তিতে আনা ২০১৪ ও ২০১৭ সালের চুক্তিচাষ সংক্রান্ত আইনগুলি রাজ্য সরকারকে বাতিল ঘোষণা করতে হবে।
  • দানা শস্য ও অন্যান্য ফসল মজুদ রাখার জন্য কিষাণ মাণ্ডিগুলিতে বহুমুখী হিমঘর নির্মাণ করুক সরকার। রেশনে খাদ্যশস্য, ডাল, তেল, ডিম, আলু এবং অন্যান্য নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস দিতে হবে। খাদ্য সুরক্ষা আইনকে কার্যকর করতে রাজ্যে অবিলম্বে খাদ্য নিগম গঠন করতে হবে ও জেলা স্তরে দায়বদ্ধ আধকারিক নিয়োগ করতে হবে। রেশন ও অন্যান্য জনকল্যাণ প্রকল্পের সাথে আধার সংযোগ করা চলবে না।
  • দেশীয় বীজ-বৈচিত্র্য বিকাশে গবেষণার ব্যাপক বিস্তার ঘটিয়ে বৃহৎ কোম্পানি-নির্ভর চাষের পদ্ধতি থেকে ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসতে উদ্যোগ নিতে হবে সরকারকে। এই লক্ষ্যে ছোট ও মাঝারি কৃষকদের সমবায় গোষ্ঠি গঠন করে বীজ, ডিজেল ও বিদ্যুৎ সরবরাহে অতিরিক্ত ভর্তুকি দিয়ে উৎসাহিত কর। নদী ক্যানেল ও জলাধারগুলির পূর্ণাঙ্গ সংস্কার সাধন করে ভূপৃষ্ঠ সেচের উন্নয়ন ও প্রসারে সার্বিক পরিকল্পনা গ্রহণ কর।
  • খাস বেনামী জমি উদ্ধার, বাস্তুহীনদের বাস্তুজমি ও জমির পাট্টা প্রদান এবং নতুন করে বর্গা রেকর্ডের কাজ শুরু করতে হবে। ল্যান্ড ব্যাংকের তথ্য সর্বসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে।  ভূমি দপ্তরের দূর্নীতি বন্ধ করতে হবে।
  • ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক এবং মহিলাদের দেওয়া সমস্ত লোন মকুব কর। মাইক্রোফিনান্স কোম্পানিগুলির জুলুম বন্ধ করতে সরকারকে হস্তক্ষেপ করতে হবে। মাইক্রোফিনান্স কোম্পানিগুলির আস্বাভাবিক সুদের হার নিয়ন্ত্রণ করতে কঠোর নির্দেশিকা দরকার।

বন বাঁচাও, বনবসতির বাসিন্দা বাঁচাও

  • ‘বনাধিকার আইন, ২০০৬’ সার্বিকভাবে লাগু কর। লক্ষ লক্ষ আবেদন বাতিল করা চলবে না। সমস্ত বনবসতিগুলিকে রাজস্ব-গ্রাম ঘোষণা কর এবং জেলাশাসকের তত্ত্বাবধানে জমি জরিপ করে জমির দাগ ও খতিয়ান নম্বর উল্লেখ করে বনের গ্রামবাসীদের জমির পাট্টা দাও। এই পাট্টার ভিত্তিতেই যেন অন্যান্য প্রাপ্য সরকারি সুবিধা পাওয়া যায়।
  • বনদপ্তরের ‘বনসুরক্ষা বাহিনী’-র শূণ্যপদে বনবসতির বেকার যুবদের অগ্রাধিকার দাও। বনকমিটিগুলো আদিবাসী ও বনগ্রামের বাসিন্দাদের নিয়েই গঠন করতে হবে এবং এই কমিটির ওপর নির্ভর করে ফরেস্ট অফিসারদের কাজ করতে হবে। বন্যপ্রাণী বাঁচানোর নামে বন থেকে আদিবাসী বনবাসীদের উচ্ছেদের চক্রান্ত রোধ কর। বনদপ্তরের আধিকারিক ও জঙ্গল মাফিয়াদের বনসম্পদ লুটের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নাও, প্রতিবাদী আদিবাসী গ্রামবাসীদের ওপর মিথ্যে মামলা সাজিয়ে হামলা চালানো বন্ধ কর।
  • আদিবাসী তথা চিরাচরিত বনগ্রামবাসীদের প্রথাগত জ্ঞানভাণ্ডারের সংরক্ষণ ও আধুনিক ব্যবহারের লক্ষ্যে বিশেষ প্রকল্প/একাডেমি গঠন করা জরুরি।
  • পরিবেশ বিনষ্টকারী সেবক-রংপো রেলওয়ে ও পুরুলিয়ার ঠুরগা প্রকল্প বাতিল কর। দেউচা-পাচামি-হরিনসিঙ্ঘা কয়লা খনি প্রকল্প থেকে সরে আসতে হবে।

সমান নাগরিকত্ব নিশ্চিত কর

  • কোনও দেশবাসীর নাগরিকত্ব বা নাগরিক অধিকার নিয়ে প্রশাসনিক হয়রানি করা চলবে না, বিশেষত সীমান্ত জেলাগুলিতে এইরকম বৈষম্য চলে। এনআরসি করতে দেওয়া চলবে না। ১৯৮৬, ২০০৩ ও ২০১৯-এর নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরুদ্ধে রাজ্য বিধানসভায় প্রস্তাব গ্রহণ করতে হবে। জনগণনা বা অন্য কোনও বাহানায় এনপিআর-এর তথ্যসংগ্রহের কাজ চালানো চলবে না।

সন্ত্রাস মুক্ত বাংলা গড়ো

  • সাধারণ মানুষের নিরাপদ শান্তির রক্ষাকর্তা হওয়ার বদলে ব্রিটিশ যুগের মত আতঙ্ক ও ত্রাসে পর্যবসিত হয়েছে পুলিশ ব্যবস্থা। বিভিন্ন স্তরের সরকারি আধিকারিকদের ব্যবহারও ব্রিটিশ প্রভুদের মত। পুলিশ ব্যবস্থা ও সরকারি প্রাশাসনকে জনদরদি ও সাধারণ মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ করে তুলতে হবে, রাজ্যে বিরোধী কন্ঠের ওপর পুলিশী নির্যাতন বন্ধ করতে হবে, সাধারণ মানুষের প্রতি দুর্ব্যবহারকারি আধিকারিকদের শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। শহরের বস্তি উচ্ছেদ চলবে না। বস্তিবাসীদের সকলের রেশন ও ভোটার কার্ড সরবরাহ করতে হবে।
  • পশ্চিমবাংলায় এসে এনআইএ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে নিরপরাধ মুসলমান যুবকদের গ্রেপ্তারি অভিযান চালাচ্ছে। এইসব গ্রেপ্তারির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে রাজ্যে ইউএপিএ প্রয়োগ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে রাজ্য সরকারকে। এনআইএ দ্বারা গ্রেপ্তার হওয়া নিরপরাধ ব্যক্তিদের আইনী সহযোগিতার বন্দোবস্ত রাজ্য সরকার করতে হবে।
  • সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম, জঙ্গলমহল, গোর্খাল্যাণ্ড ও কামতাপুরি আন্দোলনের মামলাগুলি প্রত্যাহার করে নিতে হবে এবং সমস্ত রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি দিতে হবে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারিদের কেস দিয়ে দীর্ঘ হয়রানি চালানোর হীন পথ থেকে সরকারকে সরে আসতে হবে। জঙ্গলমহল থেকে যৌথ বাহিনী তুলে নিতে হবে।

জনসাধারণের ক্ষমতা বাড়াও, বিভিন্ন স্তরের স্বায়ত্ত শাসন গড়ে তোল

  • গ্রামসংসদগুলিকে পুনরুজ্জীবিত কর। পঞ্চায়েতে গণতন্ত্র ফেরাও। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনাকে দলতন্ত্র মুক্ত করতে ছাত্রীছাত্র, শিক্ষক ও কর্মচারীদের মধ্যে থেকে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত স্বায়ত্ত পরিচালন সমিতির বিকাশ ঘটাতে হবে। কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রী, কর্মচারি ও শিক্ষকদের নিজস্ব সংসদ এবং লিঙ্গ-বৈষম্য-বিরোধী সেন্সিটাইজেশন সেল নির্বাচন নিয়মিত গণতান্ত্রিকভাবে সম্পন্ন করতে হবে।
  • তরাই-ডুয়ার্স ও জঙ্গলমহলের আদিবাসী এলাকাকে পঞ্চম তপশীলভুক্ত করে পেশা আইনের আওতায় আনতে হবে। ওই অঞ্চলগুলির সমস্ত সরকারি কাজে ও আদালতে সেখানকার আদিবাসীদের মাতৃভাষাকে প্রাধান্য দিতে হবে। গোর্খা ও লেপচা জাতির স্বায়ত্তশাসনের অধিকারকে স্বীকৃতি দাও।

সামাজিক ন্যায়, সংহতি সমানাধিকার প্রতিষ্ঠা কর

  • নারীর স্বায়ত্ত্বতা ও সমানাধিকারের স্বপক্ষে এবং ইন্টার-কাস্ট ও ইন্টার-ফেইথ বিবাহের পক্ষে সামাজিক সমর্থন গড়ে তুলতে সরকারকে বিশেষ প্রচারাভিযান চালাতে হবে। লকডাউন পর্বে মেয়েদের ওপর গার্হস্থ্য হিংসা ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে, গার্হস্থ্য হিংসার অভিযোগ নিতে বা পদক্ষেপ করতে অবহেলা করলে সংশ্লিষ্ট থানার আইসির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
  • বিধানসভা থেকে পঞ্চায়েত – সর্বস্তরে প্রতিনিধিত্বে অর্ধেক আসন মেয়েদের জন্য সংরক্ষিত করতে হবে। সিভিল সার্ভিসে মেয়েদের জন্য ৫০% আসন সংরক্ষণ করতে হবে।
  • কোনও প্রতিষ্ঠানে সংরক্ষিত আসন ফাঁকা রাখা যাবে না। সমস্ত সরকারি ও সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত সংস্থার নিয়োগকারি/ইন্টারভিউ প্যানেলে এসসি ও এসটি প্রতিনিধি থাকা বাধ্যতামূলক করতে হবে। সংরক্ষিত আসনকে সাধারণ ক্যাটেগরিতে চালান করে দিয়ে এসসি/এসটি/ওবিসিদের অধিকার হরণ চলবে না। জনগণনায় আদিবাসীদের নিজস্ব ধর্মপরিচিতিকে স্বীকৃতি দিতে হবে।
  • সাচার কমিটির সুপারিশ পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর করতে হবে। প্রতিচী ট্রাস্টের সমীক্ষায় যে বৈষম্যের দিকগুলি উঠে এসেছে তাকে গুরুত্ব দিয়ে মুসলমান জনাধিক্যের অঞ্চলগুলিতে নতুন স্কুল ও হাসপাতাল নির্মাণে অগ্রাধিকার দিতে হবে। মুর্শিদাবাদ জেলায় নিজস্ব ক্যাম্পাস সহ একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করতে হবে।
  • সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, এসসি-এসটি-ওবিসি ও মহিলাদের প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় বিদ্বেষমূলক উক্তি, রেপ-থ্রেট ও হুমকি চরম পর্বে পৌঁছাচ্ছে। এ প্রশ্নে পুলিশ প্রশাসনকে বিশেষ সক্রিয় হতে হবে, যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট পুলিশ অফিসারদের দায়বদ্ধ করতে হবে।
  • ট্রান্সফোবিয়া দূর করতে সচেতনতা অভিযান, লিঙ্গনিরপেক্ষ পরিভাষা ব্যবহার, সমস্ত সরকারি প্রতিষ্ঠান ও বিচার বিভাগে ট্রান্স-ফ্রেণ্ডলি পরিবেশ, পাব্লিক টয়লেটে ট্রান্সজেণ্ডারদের জন্য ব্যবস্থা এবং সমলিঙ্গ বিবাহ ও পছন্দ মত পরিবারের অধিকার নিশ্চিতিকরণে বিভিন্ন জেলা থেকে প্রতিনিধি নিয়ে ট্রান্সজেণ্ডার কল্যাণ বোর্ড গঠন করতে হবে। রাজ্য মহিলা কমিশনকে আরও ক্ষমতা প্রদান করে শক্তিশালী করতে হবে।
  • সমস্ত প্রবীণ নাগরিককে মাসিক ৩০০০ টাকা বার্ধক্য ভাতা দিতে হবে। পেনশন বা অন্য কোনও কল্যাণ প্রকল্পের সুবিধা পেতে আধার কার্ডের বাধ্যবাধকতা দূর করতে হবে।

পরিবেশ বাঁচাও, জীবন বাঁচাও

  • ‘পরিবেশগত প্রভাব খতিয়ে দেখার আইন (ইআইএ) বিষয়ে খসড়া বিজ্ঞপ্তি, ২০২০’ বাতিল করতে হবে। সামাজিক ও জীববৈচিত্র্যসহ বাস্তুতন্ত্রে প্রভাব বিশ্লেষণ না করে কোনও নির্মাণকার্য করা যাবে না। আর্সেনিক রোধে কৃষিতে ভূপৃষ্ঠ সেচ ব্যবস্থার বিকাশ ঘটাতে হবে, কীটনাশকের সুদূরিপ্রসারী সমস্যা থেকে মুক্ত হতে কৃষিকে ধীরে ধীরে কর্পোরেট পদ্ধতি থেকে সরিয়ে আনতে হবে। রাজ্যের সমস্ত জলাভূমির বৈজ্ঞানিক ম্যাপিং করে রক্ষণাবেক্ষণ সুনিশ্চিত করতে হবে, পূর্ব কলকাতা জলাভূমি ও সুন্দরবন উপকূলে বিশেষ নজর দাও। অবিরল নির্মল নদীপ্রবাহকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। সমস্ত শহর, কলকারখানার বর্জ্য, রাসায়নিক কীটনাশক মিশ্রিত চাষের জল নদীতে নিষ্কাশন বন্ধ করতে হবে। নদী তীরবর্তী সকল অঞ্চলের ভূমিক্ষয় ও ধ্বংসকরণ বন্ধ করতে সক্রিয় নীতি প্রণয়ন করতে হবে। নদীবক্ষ থেকে বালি তোলার কাজ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে করতে উচ্চ পর্যায়ের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন। পাথর খাদান ও ক্রাশারগুলোতে কঠোরভাবে পরিবেশবিধি লাগু করতে হবে। বড় শহরে প্রাইভেট কার/অটমোবাইল গতিবিধি নিয়ন্ত্রিত করে সাইকেল ব্যবহারকে বিভিন্নভাবে উৎসাহিত করতে হবে।
  • নদীভাঙ্গনে উদ্বাস্তুদের পুনর্বাসন প্রশ্নে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে, জাতীয় নীতি ঘোষণার জন্য বিধানসভায় রেজলিউশন পাস করতে হবে। ‘সংরক্ষিত বনাঞ্চল’ বা ‘সংরক্ষিত জলাশয়’-এর নামে নির্ভরশীল জনগোষ্ঠির অধিকার কেড়ে নেওয়া চলবে না। ‘সাগরপাড় নিয়ন্ত্রণ এলাকা নির্দেশিকা (সি জেড আর) ২০১৮’ বাতিল করে ‘সাগরপাড় সুরক্ষা এলাকা আইন’ প্রণয়ন করতে হবে যা সমুদ্র উপকুলের স্বাভাবিক বাসিন্দা তথা মৎস্যজীবীদের চিরাচরিত অধিকার স্বীকার করে সমুদ্রতট সুরক্ষিত রাখবে। ক্ষুদ্র মৎস্যজীবীরা ভুপৃষ্ঠের প্রাকৃতিক জলসম্পদের সবচেয়ে বড় দায়ভাগী ও স্বাভাবিক রক্ষাকর্তা।

যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো বহুভাষিক কৃস্টিসৃস্টি জোরালো কর

  • রাজ্যে ‘হিন্দি-হিন্দু-হিন্দুস্থান’-এর আগ্রাসন চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টাকে খারিজ করতে হবে। সমস্ত সরকারি পরীক্ষা, অফিস আদালতের কাজ বাংলা ভাষাতেও করতে হবে। সরকারি নির্দেশিকা বাংলা ও সাঁওতালি ভাষাতেও আবশ্যিকভাবে প্রকাশ করতে হবে। রাজ্যে একটি শক্তিশালী অনুবাদ পরিষদ গঠন করে সাহিত্য, সমাজবিজ্ঞান, বিজ্ঞান প্রযুক্তির নানা বইপত্র সাঁওতালি, সাদ্রি ইত্যাদি ভাষায় অনুবাদ করে প্রকাশের ব্যবস্থা করতে হবে। বাংলার সংস্কৃতির প্রগতিশীল ও বৈচিত্র্যপূর্ণ দিকগুলিকে পাঠ্যক্রমের মধ্যে নিয়ে আসতে হবে। এরাজ্যের প্রান্তিক ভাষাগোষ্ঠির সাংস্কৃতিক কর্মীদের উতসাহ-ভাতা দিতে হবে। লোকসংস্কৃতি ও লোকজ্ঞানের সংরক্ষণ ও প্রচার প্রসার করতে হবে। বাংলার বিভিন্ন ধর্ম, ভাষা, জাতি বর্ণের সাংস্কৃতিক বিনিময় ও পরস্পরের সম্পর্কে জানা বোঝা বাড়ানোর জন্য আদান প্রদান মূলক নানা উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

3 thoughts on “The Call of ’21 (একুশের ডাক) – A Novel Campaign and a Nucleus of the New”

    1. We are posting a link to the streaming of the event on YouTube, along with a brief report, later today.

      Like

We look forward to your comments. Comments are subject to moderation as per our comments policy. They may take some time to appear.

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s